প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 17, 2026 || প্রকাশের তারিখঃ Jan 10, 2026
ভোলা-২ আসনে বিএনপি প্রার্থীর হলফনামায় স্ত্রীর বিপুল খেলাপি ঋণ গোপনের অভিযোগ, ইসিতে আপিল
নিজস্ব প্রতিবেদক
ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন–দৌলতখান) আসনের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে তাঁর স্ত্রীর বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ গোপন এবং নির্বাচনী হলফনামায় সম্পদের অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি ২০২৬) একই আসনের জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থী মুফতি ফজলুল করিম নির্বাচন কমিশনে এই আপিল করেন। তাঁর পক্ষে আপিল দাখিল করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পারভেজ হোসেন।
আপিল আবেদনে বলা হয়, হাফিজ ইব্রাহিমের স্ত্রী মাফরুজা সুলতানা ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের একাধিক শাখা থেকে তাঁর উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডার প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপরীতে প্রায় ১০০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণের তথ্য গোপন করেছেন, যা প্রার্থীর দাখিলকৃত হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি।
ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ফেয়ারী শিপিং লাইনস লিমিটেড-এর নামে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে মোট ৬৮ কোটি ৯৭ লাখ ২৩ হাজার টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে। এসব ঋণের বিপরীতে ব্যাংকের পক্ষ থেকে আদালতে একাধিক মামলা চলমান। এই প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডার হিসেবে হাফিজ ইব্রাহিমের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা যুক্ত রয়েছেন।
এছাড়া ফেয়ারী শিপিং লাইনস লিমিটেডের নামে ঢাকা–মনপুরা–হাতিয়া ও বেতুয়া রুটে এমভি তাসরিফ-১, তাসরিফ-২, তাসরিফ-৩ ও তাসরিফ-৪ নামে একাধিক লঞ্চ চলাচল করছে। স্থানীয়ভাবে এসব লঞ্চ আওয়ামী লীগ আমলের হলেও এর মালিকানায় রয়েছেন ভোলা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিম।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ফেয়ারী হোম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কোং লিমিটেড-এর নামে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে আরও ২৬ কোটি ৩২ লাখ ৭ হাজার ২০৩ টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে। এই কোম্পানিতেও হাফিজ ইব্রাহিমের স্ত্রী মাফরুজা সুলতানা উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডার হলেও নির্বাচনী হলফনামায় এ তথ্য গোপন করা হয়েছে।
এছাড়া দ্য টাইমস প্রিন্টিং প্রেস লিমিটেড-এর নামে ১১ কোটি ৬৫ লাখ ৮০ হাজার ৯৪৭ টাকা মন্দমানে খেলাপি ঋণ রয়েছে, যার বিপরীতেও আদালতে মামলা চলমান। এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও হাফিজ ইব্রাহিমের পরিবার উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডার হিসেবে সম্পৃক্ত।
ব্যক্তিগত পর্যায়েও মাফরুজা সুলতানার নামে একই ব্যাংকের গুলশান শাখায় নেওয়া ৪ কোটি টাকার একটি ঋণের মধ্যে বর্তমানে ৫৭ লাখ টাকা মন্দমানে খেলাপি রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
শুধু ঋণ গোপন নয়, হাফিজ ইব্রাহিমের দাখিলকৃত হলফনামায় সম্পদের হিসাবেও বড় ধরনের অসঙ্গতির অভিযোগ আনা হয়েছে। হলফনামায় ৪ কোটি ২০ লাখ ৩৯ হাজার ৪০৮ টাকার সম্পদ উল্লেখ করা হলেও প্রকৃত সম্পদের সঙ্গে প্রায় ২ কোটি ৪৬ হাজার ৩৫৯ টাকার গরমিল রয়েছে বলে দাবি করা হয়।
অভিযোগকারী প্রার্থী মোহাম্মদ ফজলুল করিম বলেন, “বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণের তথ্য গোপন করা একজন প্রার্থীর নৈতিকতা ও স্বচ্ছতার পরিপন্থী। নির্বাচনী হলফনামায় এ ধরনের বড় গোপনীয়তা প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। আমরা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার আদেশ বাতিল করে হাফিজ ইব্রাহিমকে নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানিয়েছি।”